ডিজিটাল লেনদেনের আওতা বাড়ানোর পাশাপাশি রাজস্ব আহরণ জোরদার করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) মার্চেন্ট হিসাবের জন্য ভ্যাট নিবন্ধন বা বিজনেস আইডেনটিফিকেশন নম্বর (বিআইএন) বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে ব্যবসায়িক লেনদেনের জন্য নতুন ব্যাংক হিসাব খুলতেও ভ্যাট নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এনবিআরের কর্মকর্তারা বলছেন, করের আওতা সম্প্রসারণ এবং আরও বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে আনুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক কাঠামোর মধ্যে আনতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রায় ৭ লাখ ৯২ হাজার প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট নিবন্ধন রয়েছে। তবে ট্রেড লাইসেন্সধারী দোকান ও ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কয়েক কোটি ছাড়িয়ে গেছে। এ অবস্থায় বিপুলসংখ্যক ব্যবসাকে কর ব্যবস্থার আওতায় আনতে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোবাইল আর্থিক সেবার গ্রাহকসংখ্যা প্রায় সাড়ে ১৪ কোটি। এর মধ্যে মার্চেন্ট হিসাব রয়েছে প্রায় ৫ লাখ ৫১ হাজার। এসব হিসাবের মাধ্যমে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল লেনদেন সম্পন্ন হচ্ছে।
তবে এমএফএস খাতসংশ্লিষ্টদের একাংশ এই উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, দেশে এখনো অধিকাংশ লেনদেন নগদ টাকার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এমন পরিস্থিতিতে ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য অতিরিক্ত নিবন্ধন প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক করা হলে ডিজিটাল লেনদনের বিস্তারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরাও বলছেন, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। নতুন বিধান কার্যকর করার আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা এবং পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সুযোগ থাকা প্রয়োজন।
অন্যদিকে এনবিআরের কর্মকর্তারা মনে করছেন, ভ্যাট নিবন্ধন বাড়লে ভবিষ্যতে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা আরও আধুনিক ও কার্যকর হবে। একই সঙ্গে ব্যবসায়িক লেনদেনে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে এবং কর প্রশাসনের সক্ষমতাও শক্তিশালী হবে।
প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদনের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত নীতিমালা ও বাস্তবায়ন কৌশল নির্ধারণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

