শীতের বিদায় আর বসন্তের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে নেদারল্যান্ডসজুড়ে রঙের উৎসব শুরু হয়। সারি সারি লাল, হলুদ, গোলাপি ও বেগুনি টিউলিপে ঢেকে যায় দেশটির বিস্তীর্ণ প্রান্তর। বিশ্বের সবচেয়ে বড় টিউলিপ রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে নেদারল্যান্ডসে এই ফুল শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, বরং এটি দেশটির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ডাচ সংস্কৃতি ও টিউলিপবিষয়ক জনপ্রিয় ব্লগ ‘টিউলিপস ইন হল্যান্ড’-এর প্রতিষ্ঠাতা নিয়েনকে পানিস-রিঙ্গার্সমা দীর্ঘদিন ধরে টিউলিপ মৌসুমকে ঘিরে কাজ করছেন। পেশায় তিনি একজন লাইসেন্সপ্রাপ্ত ট্যুর গাইড এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত টিউলিপের ছবি ও ফুল ফোটার সর্বশেষ তথ্য প্রকাশ করেন।
তাঁর মতে, টিউলিপের প্রতি নেদারল্যান্ডসবাসীর ভালোবাসা শুরু হয় বছরের শুরুতেই। ডিসেম্বর মাস থেকে ফুলের দোকানগুলোতে টিউলিপ বিক্রি শুরু হয়। আর জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহান্তে দেশজুড়ে পালিত হয় জাতীয় টিউলিপ দিবস। এ উপলক্ষে আমস্টারডামের মিউজিয়াম স্কয়ারে প্রায় তিন লাখ টিউলিপ দিয়ে সাজানো হয় বিশেষ আয়োজন।
টিউলিপ দেখার সেরা গন্তব্য: কিউকেনহফ
নিয়েনকের মতে, নেদারল্যান্ডসে টিউলিপ উপভোগের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং অনন্য স্থান হলো কিউকেনহফ গার্ডেন।
১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বাগানকে অনেকেই বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর বসন্তকালীন উদ্যান হিসেবে আখ্যায়িত করেন। প্রতি বছর এখানে হাতে লাগানো হয় প্রায় ৭০ লাখ ফুলের কন্দ। মাত্র আট সপ্তাহের জন্য দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকা এই উদ্যান দেখতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো পর্যটক ভিড় করেন।
কিউকেনহফে দর্শনার্থীরা শুধু টিউলিপই নয়, উপভোগ করতে পারেন ফুলের প্রদর্শনী, খালপথে নৌভ্রমণ, পিকনিক এবং খোলা আকাশের নিচে শিল্পকর্ম প্রদর্শনী।
কখন যাবেন?
প্রতিবছর আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে কিউকেনহফ খোলার সময় নির্ধারণ করা হয়। ২০২৬ সালে এটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে ১৯ মার্চ থেকে ১০ মে পর্যন্ত।
তবে নিয়েনকের পরামর্শ অনুযায়ী, টিউলিপের সবচেয়ে মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে চাইলে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় ভ্রমণ পরিকল্পনা করাই সবচেয়ে ভালো।
টিউলিপ ক্ষেত ঘুরে দেখার ক্ষেত্রে সতর্কতা
পর্যটকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বার্তাও দিয়েছেন এই বিশেষজ্ঞ। নেদারল্যান্ডসে বাণিজ্যিক টিউলিপ ক্ষেতের মধ্যে প্রবেশ করা কিংবা রাস্তার পাশে গাড়ি পার্ক করে সেখানে ছবি তোলা আইনত নিষিদ্ধ।
কারণ, এসব ক্ষেত মূলত কৃষকদের জীবিকার অংশ। বাইরের মানুষের জুতা থেকে জীবাণু ছড়িয়ে ফুলের ক্ষতি হতে পারে। পাশাপাশি ক্ষেতে নেমে ফুল তোলা বা ছবি তোলাও উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
নিয়েনকে বলেন, অনেক পর্যটক মনে করেন এসব ফুলের ক্ষেত তাঁদের জন্য উন্মুক্ত। কিন্তু বাস্তবে এগুলো কৃষিজমি, তাই স্থানীয় নিয়মকানুন মেনে চলা জরুরি।
রঙিন টিউলিপের সমারোহ, মনোমুগ্ধকর বসন্তের আবহ এবং ডাচ সংস্কৃতির ছোঁয়া—সব মিলিয়ে নেদারল্যান্ডসের টিউলিপ মৌসুম পর্যটকদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে। আর এই সৌন্দর্যকে সম্মান জানিয়ে দায়িত্বশীলভাবে উপভোগ করাই হতে পারে ভ্রমণের সবচেয়ে সুন্দর অংশ।

