Homeআন্তর্জাতিকট্রাম্পের ঘোষিত ইরান চুক্তি নিয়ে আশাবাদ, তবে রয়ে গেছে অনিশ্চয়তা

ট্রাম্পের ঘোষিত ইরান চুক্তি নিয়ে আশাবাদ, তবে রয়ে গেছে অনিশ্চয়তা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে একটি সম্ভাব্য চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে। তবে চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয় এখনো অস্পষ্ট থাকায় এর বাস্তবায়ন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন থেকেই গেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প জানান, চুক্তি কার্যকর হলে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধও তুলে নেওয়া হবে। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তবে চুক্তির বিস্তারিত শর্তাবলি এখনো প্রকাশ করা হয়নি। বিশেষ করে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রমের সীমা কী হবে, উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হবে এবং পরমাণু কর্মসূচির ওপর নজরদারির পদ্ধতি কী হবে—এসব বিষয়ে এখনো স্পষ্টতা নেই।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, চুক্তির অন্যতম শর্ত হচ্ছে ইরান যেন কখনো পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে না পারে। তাঁর দাবি, এই বিষয়ে যাচাইয়ের ব্যবস্থাও চুক্তির আওতায় রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, সমঝোতা স্মারকে উল্লিখিত অপর পক্ষের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের পরই চূড়ান্ত আলোচনা এগোবে। ফলে চুক্তির ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে উভয় পক্ষ কীভাবে নিজেদের দায়বদ্ধতা ব্যাখ্যা ও বাস্তবায়ন করে তার ওপর।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হলেও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে আটকে থাকা তেলবাহী জাহাজ, নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং উৎপাদন ব্যবস্থার স্বাভাবিকতায় ফিরতে কয়েক সপ্তাহ সময় প্রয়োজন হতে পারে।

চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অনিশ্চয়তার নাম ইসরায়েল। মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানিয়েছেন, লেবাননে সামরিক হামলার কারণে তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর অসন্তুষ্ট ছিলেন। কারণ, এমন পদক্ষেপ চলমান আলোচনাকে ভেস্তে দিতে পারত।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইসরায়েল যদি নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করে, তাহলে ইরান আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে। এতে বৈশ্বিক অর্থনীতি নতুন করে সংকটে পড়তে পারে।

এদিকে, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যেও অসন্তোষ বাড়ছে। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, অর্থনীতি পরিচালনায় ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি অনেক মার্কিন নাগরিক অসন্তুষ্ট। ফলে এই চুক্তি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে তা শুধু আন্তর্জাতিক অঙ্গনেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও এখনই চূড়ান্ত সাফল্যের ঘোষণা দেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ, মধ্যপ্রাচ্যের জটিল ভূরাজনীতি এবং পারস্পরিক অবিশ্বাসের বাস্তবতায় সামান্য ভুল পদক্ষেপও পুরো সমঝোতাকে নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিতে পারে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ