Homeআন্তর্জাতিকস্ট্যানফোর্ডের সমাবর্তনে সুন্দর পিচাইয়ের বক্তব্য চলাকালে শিক্ষার্থীদের ওয়াকআউট

স্ট্যানফোর্ডের সমাবর্তনে সুন্দর পিচাইয়ের বক্তব্য চলাকালে শিক্ষার্থীদের ওয়াকআউট

গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুন্দর পিচাইয়ের সমাবর্তন বক্তৃতার সময় স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক ডজন শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। গুগলের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে সম্পৃক্ততা এবং ইসরায়েল-সম্পর্কিত কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে এই ওয়াকআউটের আয়োজন করা হয়।

বিবিসির প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, পিচাই মঞ্চে বক্তব্য দিতে উঠতেই একদল শিক্ষার্থী ধীরে ধীরে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বেরিয়ে যান। এই কর্মসূচির পেছনে স্ট্যানফোর্ড শাখার ‘স্টুডেন্টস ফর জাস্টিস ইন প্যালেস্টাইন’ (এসজেপি) সংগঠনের ভূমিকা ছিল বলে জানা গেছে।

প্রতিবাদকারীরা গুগলের যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই) এবং ইসরায়েলের সঙ্গে প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিরোধিতা করেন। ওয়াকআউটের সময় কয়েকজন শিক্ষার্থীর হাতে প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড এবং ফিলিস্তিনি পতাকাও দেখা যায়।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এসএফগেটের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করতে পারেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা নিশ্চিত করেনি।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী সুন্দর পিচাই তাঁর বক্তব্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রসঙ্গ এড়িয়ে চললেও সম্ভাব্য প্রতিবাদ নিয়ে হালকা রসিকতা করেন। তিনি বলেন, “অনেকে ভেবেছিল, এটি আমার জন্য কঠিন হবে। কারণ আমার পদবির শেষ দুটি অক্ষরই তো ‘এআই’।”

তবে গুগলের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ নতুন নয়। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের উপস্থিতি ঘিরে প্রতিবাদের ঘটনা ঘটেছে। এসব প্রতিবাদের বড় একটি অংশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে ভবিষ্যতে চাকরির বাজারে সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

এর আগে অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে এআই নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় সাবেক গুগল প্রধান এরিক শ্মিট শিক্ষার্থীদের তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়েন। একই ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হন ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা এবং মিডল টেনেসি স্টেট ইউনিভার্সিটির সমাবর্তন বক্তারাও।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর নীতিগত অবস্থান, সরকারি সংস্থার সঙ্গে অংশীদারত্ব এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে নতুন ধরনের বিতর্ক ও সচেতনতা তৈরি হয়েছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ