ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ দ্রুত গঠন এবং এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকা শেয়ার প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। এ দাবিতে মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. মো. মোস্তাকুর রহমানের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন সংগঠনটির নেতারা।
সংগঠনের আহ্বায়ক নুর উন–নবীর স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে ব্যাংকটির প্রতি গ্রাহকদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধার, দায়ীদের বিচার এবং ব্যাংক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে সাত দফা দাবি তুলে ধরা হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, সম্প্রতি ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে এবং জাতীয় সংসদে দেওয়া একটি বক্তব্যের পর গ্রাহকদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেক আমানতকারী তাঁদের অর্থের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে বিভিন্ন শাখা থেকে টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করছেন। কিছু ক্ষেত্রে চাহিদামতো অর্থ সরবরাহে জটিলতা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে বলে দাবি করা হয়।
গ্রাহক ফোরামের অভিযোগ, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ অনিয়মের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন উপায়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যাংক থেকে বের করে নেওয়া হয়। তবে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্যাংকটি পুনরুদ্ধারের পথে এগোতে শুরু করে এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নতুন আমানত সংগ্রহ করে।
সংগঠনটির ভাষ্য, ইসলামী ব্যাংক কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পদ নয়; এটি লাখো গ্রাহকের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি প্রতিষ্ঠান। তাই ব্যাংকটির স্থিতিশীলতা রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
ফোরামের সাত দফা দাবি
- যোগ্য, সৎ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ গঠন।
- ২০১৭ সালে পরিবর্তিত মালিকানা প্রকৃত শেয়ারধারীদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া।
- আর্থিক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা।
- ব্যাংকিং খাতে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে এমন সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকা এবং অপপ্রচার মোকাবিলায় ব্যবস্থা নেওয়া।
- বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা এবং দায়ীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে ব্যাংকের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া।
- ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন করে আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়িত ব্যক্তিদের ব্যাংকের পরিচালনায় অংশগ্রহণে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ।
- ইসলামী ব্যাংক নিয়ে জাতীয় সংসদে দেওয়া বিতর্কিত বক্তব্য প্রত্যাহার।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয় এস আলম গ্রুপ। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্যাংকটির পরিচালনায় পরিবর্তন আসে। সম্প্রতি চেয়ারম্যানসহ পুরো পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে দায়িত্ব গ্রহণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপরও বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম।

