মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্পর্ক নতুন এক পরীক্ষার মুখে পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানিয়েছে, যা দুই মিত্র দেশের মধ্যে বিরল মতবিরোধের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির কথা উল্লেখ থাকলেও ইসরায়েল লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে। শুধু তাই নয়, দেশটির সেনাবাহিনী দখলকৃত অঞ্চল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখারও ঘোষণা দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসন প্রকাশ্যে যুদ্ধবিরতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সব পক্ষকে তাদের অঙ্গীকার রক্ষা করতে হবে এবং লেবানন, ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়া জরুরি।
বিশ্লেষকদের মতে, লেবানন ইস্যুই এখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। তেহরান বারবার জানিয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলি হামলা চলতে থাকলে বৃহত্তর শান্তি প্রক্রিয়া ঝুঁকির মুখে পড়বে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, বেসামরিক এলাকায় হামলা এবং নিরীহ মানুষের প্রাণহানি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের সবচেয়ে শক্তিশালী মিত্র এখনো যুক্তরাষ্ট্র।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্প তাঁর ইরান-সংক্রান্ত কূটনৈতিক অর্জনকে রক্ষা করতে চাইছেন। ফলে নেতানিয়াহু সরকারের কর্মকাণ্ড যদি সেই প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, তাহলে ওয়াশিংটন এবার আগের তুলনায় আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারে।
তবে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর বাস্তবিক অর্থে কতটা চাপ প্রয়োগ করতে পারবেন ট্রাম্প? নাকি মধ্যপ্রাচ্যের জটিল বাস্তবতা আবারও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে?
আগামী কয়েক সপ্তাহের ঘটনাপ্রবাহই এই প্রশ্নের উত্তর দেবে।

