শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী। তিনি বলেছেন, বায়ুদূষণের পাশাপাশি শব্দদূষণও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে, যা মোকাবিলায় সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
রোববার (২১ জুন) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরে আয়োজিত ‘শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প’-এর সমাপনী কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, শব্দদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনগণকে আরও সচেতন করতে হবে। অতিরিক্ত শব্দের কারণে মাথাব্যথা, শ্রবণশক্তি হ্রাস, অনিদ্রা, মানসিক অস্থিরতা এবং মনোযোগে ব্যাঘাতসহ নানা স্বাস্থ্যসমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকেন।
তিনি আরও বলেন, অপ্রয়োজনীয় হর্ন ব্যবহার শুধু অন্যদের জন্য নয়, চালকদের নিজের জন্যও ক্ষতিকর। সড়কে অতিরিক্ত হর্নের কারণে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরাও স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছেন।
পরিবেশমন্ত্রী জানান, কেবল একটি প্রকল্পের মাধ্যমে শব্দদূষণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এজন্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), বাংলাদেশ পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। সমন্বিত ও ধারাবাহিক উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশকে শব্দদূষণমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিআরটিএ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, পরিবেশ মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

