মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা এগিয়ে চললেও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে তেহরান। ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, হরমুজ প্রণালি আর আগের অবস্থায় ফিরবে না এবং এটি ইরানের তত্ত্বাবধানেই পরিচালিত হবে।
মঙ্গলবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক বক্তব্যে গালিবাফ বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনায় ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হবে। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক আলোচনায় এ বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে।
সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টক অবকাশকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর দেশে ফিরে গালিবাফ বলেন, হরমুজ প্রণালি, লেবাননের পরিস্থিতি, ইরানি তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং আটকে থাকা তহবিল ছাড়ের বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, সমঝোতার অংশ হিসেবে ইরান আবারও জাতিসংঘের পারমাণবিক পরিদর্শকদের দেশে প্রবেশের অনুমতি দেবে। এর পরপরই ইরানি তেলের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ওয়াশিংটন।
চুক্তির আওতায় ইরান নির্দিষ্ট কিছু অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে এবং দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা কিছু সম্পদও অবমুক্ত করা হবে বলে জানা গেছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে সম্মত হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ থাকলে ভুল বোঝাবুঝি ও সম্ভাব্য সংঘাত এড়ানো সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গালিবাফ বলেন, বর্তমান সমঝোতা কেবল শুরু মাত্র। দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে পৌঁছাতে আরও আলোচনা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা প্রয়োজন হবে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করে। যুদ্ধ শুরুর পর কয়েক দফা এই নৌপথে চলাচল ব্যাহত হলেও সাম্প্রতিক সমঝোতার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।

