স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশ আর আগের মতো অতিরিক্ত শুল্ক ও কর আরোপ করে দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে পারবে না। তাই স্থানীয় শিল্পকে রক্ষায় এখন থেকেই আন্তর্জাতিক নিয়মসম্মত ‘ট্রেড রেমেডি’ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার সুপারিশ করেছেন গবেষকেরা।
বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের (বিটিটিসি) জন্য পরিচালিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, এলডিসি উত্তরণের পর উন্মুক্ত বাণিজ্য পরিবেশে দেশীয় শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। সস্তা ও ভর্তুকিপ্রাপ্ত আমদানির চাপে অনেক শিল্প খাত ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, এইচএস চার অঙ্কের শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী অন্তত ৯২টি পণ্যের জন্য সুরক্ষা প্রয়োজন হতে পারে। এর মধ্যে ১৫টি পণ্যে ডাম্পিংয়ের ঝুঁকি রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ পণ্যের তালিকায় শুকনা ফল, চিনিজাত পণ্য, সংরক্ষিত ফল ও বাদাম, গাড়ি ও মোটরসাইকেলের টায়ার, স্প্লিট এয়ার কন্ডিশনার, খেলনা এবং বিভিন্ন ধরনের বস্ত্রপণ্য রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্যারা ট্যারিফ তুলে নিতে হলে তার পরিবর্তে অ্যান্টি-ডাম্পিং ডিউটি, কাউন্টারভেইলিং ডিউটি (সিভিডি) এবং সেফগার্ড ব্যবস্থার মতো ট্রেড রেমেডি কার্যকর করতে হবে। এসব ব্যবস্থা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) অনুমোদিত এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।
গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ভারত ও চীনের ভর্তুকিপ্রাপ্ত ১২টি পণ্যের বিরুদ্ধে প্রয়োজন হলে কাউন্টারভেইলিং ডিউটি আরোপের সুযোগ রয়েছে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে পেঁয়াজ, তুলার সুতা, সিনথেটিক বস্ত্র, স্টিল পণ্য, কৃষিযন্ত্রের যন্ত্রাংশ, লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ও সৌর প্যানেল।
তবে ট্রেড রেমেডি ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বড় দুর্বলতা হলো তথ্যভান্ডার, আইনি সহায়তা ও কারিগরি সক্ষমতার ঘাটতি। বিদেশে বাংলাদেশি পণ্যের বিরুদ্ধে অ্যান্টি-ডাম্পিং তদন্ত হলে তার যথাযথ জবাব দিতেও সমস্যায় পড়তে হয় রপ্তানিকারকদের।
এ কারণে গবেষকরা বিটিটিসির অধীনে বিশেষায়িত ট্রেড রেমেডি ইউনিট গঠন, আগাম সতর্কতাব্যবস্থা চালু, রপ্তানিকারকদের জন্য ডিফেন্স সেল প্রতিষ্ঠা এবং সরকারি-বেসরকারি খাতের সমন্বয় বাড়ানোর সুপারিশ করেছেন।
বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এলডিসি উত্তরণের পর দেশীয় শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে শুল্কনির্ভর সুরক্ষা থেকে বেরিয়ে এসে আন্তর্জাতিক নিয়মভিত্তিক প্রতিরক্ষামূলক বাণিজ্য কাঠামো গড়ে তোলাই হবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় করণীয়।

