যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, পরিস্থিতি যদি আবার পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে গড়ায়, তাহলে ইরানের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে তেহরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং উপকূলীয় রাডার স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো সংযত অবস্থানে রয়েছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত হতে পারে। ট্রাম্পের ভাষায়, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের চলমান অভিযান সম্পূর্ণ সামরিক শক্তি দিয়ে শেষ করবে।
এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাব হিসেবেই ইরানের একাধিক সামরিক স্থাপনায় এই অভিযান চালানো হয়েছে।
সেন্টকমের দাবি, শুক্রবার পানামার পতাকাবাহী প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল জ্বালানি বহনকারী একটি তেলবাহী ট্যাংকারেও হামলা চালানো হয়। এই ঘটনার পরই নতুন সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রকাশিত একটি ভিডিওতে আকাশ থেকে ধারণ করা বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা গেছে। সেখানে জানানো হয়, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর যৌথ অভিযানে হরমুজ উপকূলের কাছে ইরানের অন্তত ১০টি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে ইরানকে কেন্দ্র করে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। পরে দুই দেশের প্রেসিডেন্ট একটি সমঝোতা স্মারকে সই করলেও স্থায়ী শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে চলমান আলোচনার মধ্যেই উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছে।

