বর্তমান প্রজন্মের তরুণদের মধ্যে অর্থ ব্যবস্থাপনার ধারণায় বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে জেন-জি প্রজন্ম শুধু ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় নয়, বরং বর্তমান জীবনযাপন, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং অভিজ্ঞতাকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে বিশ্বজুড়ে তাদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ‘সফট সেভিংস’ নামের নতুন আর্থিক প্রবণতা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া জেন-জি প্রজন্ম অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মূল্যস্ফীতি, বৈশ্বিক সংকট এবং পরিবর্তিত কর্মসংস্থানের বাস্তবতার মধ্যে বেড়ে উঠেছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনার বদলে তারা বর্তমান জীবনমান ও মানসিক স্বস্তিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ জেন-জি তরুণ দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক লক্ষ্য নির্ধারণে দ্বিধাগ্রস্ত। তারা অবসরের জন্য অতিরিক্ত সঞ্চয়ের চেয়ে ভ্রমণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং জীবন উপভোগে ব্যয় করাকে বেশি বাস্তবসম্মত মনে করে।
তবে আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র সঞ্চয় বা জীবন উপভোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে ভবিষ্যতে বড় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। আকস্মিক অসুস্থতা, চাকরি হারানো বা পারিবারিক সংকটের মতো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য জরুরি তহবিল, স্বাস্থ্যবিমা ও জীবনবিমার মতো আর্থিক সুরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জেন-জিদের জন্য সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো বর্তমান ও ভবিষ্যতের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা। অর্থাৎ জীবন উপভোগের পাশাপাশি জরুরি সঞ্চয়, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ এবং আর্থিক সুরক্ষার বিষয়গুলোও সমান গুরুত্ব দেওয়া।
এছাড়া ডিজিটাল যুগে অনলাইন প্রতারণা ও ভুয়া বিনিয়োগের ফাঁদ থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শও দিয়েছেন তারা। কারণ আর্থিক নিরাপত্তা এখন শুধু আয় বা সঞ্চয়ের ওপর নয়, সচেতনতা ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপরও নির্ভরশীল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জেন-জি প্রজন্ম অর্থ ও সঞ্চয়কে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছে। তবে এই নতুন ধারার সাফল্য নির্ভর করবে বর্তমানের স্বাচ্ছন্দ্য ও ভবিষ্যতের নিরাপত্তার মধ্যে সঠিক ভারসাম্য তৈরির ওপর।

