দেশের ব্যাংক খাতে আমানত বাড়লেও এবার প্রবৃদ্ধির হারে বেসরকারি ব্যাংককে ছাড়িয়ে গেছে সরকারি ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো। একসময় উন্নত সেবা ও প্রতিযোগিতামূলক সুদের কারণে বেসরকারি ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আগ্রহ বেশি থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে সেই চিত্রে পরিবর্তন এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি–মার্চ প্রান্তিক শেষে দেশের ব্যাংক খাতে মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২১ লাখ ৫৮ হাজার ২৫ কোটি টাকা, যা এক বছর আগে ছিল ১৯ লাখ ২৩ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে ব্যাংক খাতে আমানত বেড়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৫২০ কোটি টাকা। এ সময়ে সামগ্রিক আমানত প্রবৃদ্ধির হার ছিল ১২ দশমিক ১৯ শতাংশ।
তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর আমানত প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ দশমিক ২০ শতাংশ, যেখানে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর প্রবৃদ্ধি ছিল ১২ দশমিক ৫১ শতাংশ। বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো আরও এগিয়ে রয়েছে, যেখানে প্রবৃদ্ধির হার ১৩ দশমিক ২৯ শতাংশ।
ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেশ কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংকে আর্থিক সংকট, আমানত ফেরত পেতে বিলম্ব এবং শরিয়াহভিত্তিক কয়েকটি ব্যাংক একীভূতকরণ নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে অনেক আমানতকারী নিরাপদ বিকল্প হিসেবে সরকারি ব্যাংকের দিকে ঝুঁকছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ শেষে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মোট আমানত দাঁড়িয়েছে ১৪ লাখ ৯১ হাজার ১০৮ কোটি টাকা, যা মোট আমানতের প্রায় ৬৯ শতাংশ। অন্যদিকে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর হাতে রয়েছে মোট আমানতের প্রায় ২৪ শতাংশ।
এ বিষয়ে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু সরকারি ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা বেড়েছে। একই সঙ্গে বেশ কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংকের আমানত প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ায় সার্বিকভাবে এই খাতে প্রবৃদ্ধির গতি কমেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে আমানত বৃদ্ধির হার বেশি দেখা গেছে। গত এক বছরে গ্রামীণ এলাকায় আমানত বেড়েছে ১৪ দশমিক ১০ শতাংশ, যেখানে শহরাঞ্চলে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ১১ দশমিক ৮৪ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাংকিং খাতে আস্থা পুনরুদ্ধার এবং সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে আমানত প্রবাহ আরও শক্তিশালী হবে। অন্যথায় নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে গ্রাহকদের সরকারি ব্যাংকমুখী হওয়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

