ইরান–ইসরায়েল উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছেন ইরানের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদ ভাহিদি। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত এই সামরিক কর্মকর্তা বর্তমানে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)–এর অন্যতম প্রভাবশালী মুখ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। একই সঙ্গে ১৯৯৪ সালে আর্জেন্টিনার বুয়েনস এইরেসে ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশও রয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় আইআরজিসির সাবেক প্রধান মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হওয়ার পর সংগঠনটির নেতৃত্বে আসেন আহমাদ ভাহিদি। বিশ্লেষকদের মতে, তিনি আগের নেতৃত্বের তুলনায় আরও কট্টরপন্থী অবস্থানের প্রতিনিধি এবং পশ্চিমাদের সঙ্গে আপসের বিপক্ষে কঠোর অবস্থান নিয়ে থাকেন।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরানবিষয়ক পরিচালক আলী ভায়েজের ভাষ্য অনুযায়ী, ভাহিদি শুধু সামরিক নেতা নন, বরং ইরানের নীতিনির্ধারণী কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তাঁর মতামত এখন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে চুক্তি না হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এর জবাবে ভাহিদিও কড়া বার্তা দিয়ে বলেছেন, ইরানে নতুন হামলা হলে তা শুধু আঞ্চলিক সংঘাতে সীমাবদ্ধ থাকবে না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান বর্তমানে আইআরজিসি-ঘনিষ্ঠ একটি শক্তিশালী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে ভাহিদি অন্যতম প্রধান ব্যক্তি। তাঁর নেতৃত্বে ইরান আরও কঠোর কৌশল নিতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।
১৯৫৮ সালে শিরাজে জন্ম নেওয়া আহমাদ ভাহিদি ইসলামি বিপ্লবের শুরুর দিক থেকেই ইরানের সামরিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত। তিনি আইআরজিসির অভিজাত কুদস ফোর্সের প্রথম কমান্ডার ছিলেন এবং পরে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।


