Homeআন্তর্জাতিকচীনের সহায়তায় মিয়ানমারে ফের শুরু হতে পারে মিতসোন বাঁধ প্রকল্প, বাড়ছে বিতর্ক

চীনের সহায়তায় মিয়ানমারে ফের শুরু হতে পারে মিতসোন বাঁধ প্রকল্প, বাড়ছে বিতর্ক

মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় কাচিন রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা মিতসোন জলবিদ্যুৎ বাঁধ প্রকল্প আবারও চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটির সরকার। চীনের সহযোগিতায় বাস্তবায়নাধীন এই বহুল আলোচিত প্রকল্পটি আগামী কয়েক বছরের মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

সম্প্রতি চীন সফর শেষে দেশটির প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং প্রকল্পটি পুনরায় চালুর বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান নেন। এরপর থেকেই কাচিন রাজ্যের প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে।

মিতসোন বাঁধটি মিয়ানমারের অন্যতম বৃহৎ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প হিসেবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে স্থানীয় জনগণের তীব্র বিরোধিতা, পরিবেশগত ঝুঁকি এবং বিপুলসংখ্যক মানুষের বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কায় ২০১১ সালে এর নির্মাণকাজ স্থগিত হয়ে যায়।

সরকারি সূত্রের দাবি, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিবেশগত ক্ষতি কমানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণের উদ্বেগও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রকল্পটি চালু হলে মিয়ানমারের বিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। তবে উৎপাদিত বিদ্যুতের বড় অংশ চীনে রপ্তানির আগের পরিকল্পনা বহাল থাকবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, বাঁধ নির্মাণে প্রায় ১১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হতে পারে, যা প্রাথমিক ব্যয়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি।

এদিকে পরিবেশবাদী সংগঠন ও নাগরিক সমাজের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম নতুন করে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের বিরোধিতা করছে। তাদের দাবি, এই বাঁধ নির্মাণ হলে বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে চলে যেতে পারে এবং স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বিশেষজ্ঞদের আরও আশঙ্কা, ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে এত বড় জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণ ভবিষ্যতে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।

সরকার অবশ্য বলছে, বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবিলা এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই প্রকল্পটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয় জনগণের মতামত, পরিবেশগত প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক সমালোচনার বিষয়গুলো সামনে রেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ