জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে দীর্ঘ সময় আলোচনা হলেও অর্থবিল পাসের সময় বিরোধী দলের কোনো সদস্য লিখিত সংশোধনী প্রস্তাব জমা দেননি। বিষয়টি সংসদীয় অঙ্গনে বিরল ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংসদীয় রীতি অনুযায়ী, কোনো বিলের নির্দিষ্ট ধারা পরিবর্তনের প্রস্তাব থাকলে সদস্যদের লিখিত সংশোধনী জমা দিতে হয়। তবে এবার বিরোধী দলের সদস্যরা বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে সমালোচনা ও পরিবর্তনের দাবি তুললেও অর্থবিলের কোনো ধারায় আনুষ্ঠানিক সংশোধনী দেননি।
সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সাধারণত বিরোধী দলের সদস্যরাই বিভিন্ন বিলে সবচেয়ে বেশি সংশোধনী প্রস্তাব দিয়ে থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকেও এসব প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। কিন্তু এবারের অর্থবিলে বিরোধী দলের কোনো লিখিত সংশোধনী না থাকায় বিষয়টি ব্যতিক্রম হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে সরকারি দলের ১১ জন সংসদ সদস্য মোট ৬৪টি সংশোধনী প্রস্তাব দেন এবং সেগুলো গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত পরিবর্তন ছিল করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা নির্ধারণ করা।
সংসদীয় বিধি অনুযায়ী, শুধু আলোচনায় কোনো দাবি তোলা যথেষ্ট নয়। বিলে পরিবর্তন আনতে হলে সংশ্লিষ্ট ধারায় লিখিত সংশোধনী প্রস্তাব জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। লিখিত প্রস্তাব ছাড়া কোনো পরিবর্তন অর্থবিলে যুক্ত করা সম্ভব হয় না।
এ প্রসঙ্গে একটি উদাহরণ হিসেবে বাইসাইকেলের যন্ত্রাংশে কর কমানোর বিষয়টি উঠে এসেছে। সংসদে এ নিয়ে মৌখিক আলোচনা হলেও সংশ্লিষ্ট ধারায় লিখিত সংশোধনী না থাকায় অর্থবিলে পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়নি। পরে সরকার বিষয়টি আলাদাভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেয়।
বিরোধী দলের একজন সংসদ সদস্য জানিয়েছেন, তাঁদের মূল আপত্তি ছিল বাজেটের সামগ্রিক কাঠামো, বাস্তবায়ন সক্ষমতা এবং অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে। তাঁদের মতে, কয়েকটি ধারা পরিবর্তন করে এসব মৌলিক সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। সে কারণেই তাঁরা পৃথক সংশোধনী না এনে পুরো বিল জনমত যাচাইয়ের জন্য পাঠানোর প্রস্তাব দেন। তবে সেই প্রস্তাব সংসদে গৃহীত হয়নি।
সংসদীয় বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে অর্থবিল নিয়ে কার্যকর বিতর্ক ও নীতিগত পরিবর্তন আনতে বিরোধী দলের সক্রিয় সংশোধনী প্রস্তাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

