যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রেসিডেন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে একটি প্রাথমিক শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন, যার লক্ষ্য দুই দেশের মধ্যে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটানো। চুক্তি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
চুক্তির আওতায় ইরানের পুনর্গঠনে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের ওপর আরোপিত বিভিন্ন ধরনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ধীরে ধীরে প্রত্যাহারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি–৭ সম্মেলনের ফাঁকে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, এই উদ্যোগ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বিপর্যয় এড়াতে সহায়তা করবে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতা না হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানও চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন বলে তেহরান নিশ্চিত করেছে। তবে দেশটির শীর্ষ নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি এখনো সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছেন।
চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। এ বিষয়ে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হবে এবং উভয় পক্ষের সম্মতিতে সময়সীমা আরও বাড়ানো যেতে পারে। সমঝোতা অনুযায়ী, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না বলে পুনরায় অঙ্গীকার করেছে।
এ ছাড়া সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তত্ত্বাবধানে দেশে থেকেই প্রক্রিয়াজাত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর পর কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়া হরমুজ প্রণালি আপাতত ৬০ দিনের জন্য কোনো অতিরিক্ত চার্জ ছাড়াই জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তবে ভবিষ্যতে নতুন শর্ত আরোপের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হয়নি।
চুক্তির খবর প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক তেলবাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম কিছুটা কমলেও তা এখনো যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় বেশি রয়েছে।
তবে এই চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা চুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে ইরানের পুনর্গঠনের জন্য ঘোষিত তহবিল এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে সমালোচনা চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির পথে এটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক সংঘাত এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এখনো পুরোপুরি নিষ্পত্তি হয়নি। ফলে চূড়ান্ত শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ এখনো চ্যালেঞ্জপূর্ণ।

